ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে 'কঠিন পরিণতি' বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সামরিক অভিযান ইস্যুতে মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইনের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিপরীতে তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার পক্ষে থাকলেও আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে আলোচনা সফল না হলে ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন: "আমি চাই ইরানের সাথে একটি চুক্তি হোক। কিন্তু যদি আমরা কোনো সমঝোতায় না যেতে পারি, তবে তা ইরান এবং দেশটির জনগণের জন্য খুবই খারাপ সময় বয়ে আনবে।"
জেনারেল ড্যান কেইনের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে ট্রাম্প জানান, পুরো পরিস্থিতির দায়িত্ব কেইনকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জেনারেল কেইন এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার পতনের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। তেহরান ইউনিভার্সিটি, আল জাহরা এবং আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়।আন্দোলনকারীরা জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা তেহরান সরকারকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রস্তুতির মুখে ইরান জানিয়েছে, তারা সংঘাতের চেয়ে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিতে চায়। তবে ওয়াশিংটন যদি কোনো ধরণের 'প্রতারণা' বা আক্রমণ করে, তবে তেহরান তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নতুন পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের আগে উত্তেজনা প্রশমিত করতে জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।