পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার মামলায় উপজেলা কৃষক দলের নেতা মো. মর্তুজা বিল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের আবাসন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মর্তুজা বিল্লাহ পবিপ্রবিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ১৪ নম্বর আসামি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার সময় কয়েকজন সিনিয়র অধ্যাপককে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গত সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে শিক্ষকদের পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষকদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে দুমকি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দুমকিতে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় করা একটি মামলার বাদী ছিলেন এই মর্তুজা বিল্লাহ। ওই মামলাকে পুঁজি করে এলাকায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করার ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনার এই হামলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত বুধবার উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল ও কৃষক দলের ৯ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অবশ্য গ্রেফতার হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মর্তুজা বিল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলাকে কেন্দ্র করে অন্য অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত এবং মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।