আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সততার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’সম্পন্ন করার লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সোর প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
অনিয়ম করলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’গঠন করা হয়েছে। এখানে মাঠপর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুতকৃত ‘ইলেকশন প্রোটেকশন অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে। এ অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারে। এ বিষয়ে তাদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনী প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এবারের তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ এর ব্যবহার।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্যই ছাত্রজনতা ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায়।
তিনি আরও বলেন, যারা আগের সেই প্রক্রিয়াকে সমর্থন বা সহায়তা করেছে তারা চাকরিচ্যুত, কারাদণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়াসহ গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে।