এক সময়ে ক্রিকেটে রাজত্ব করে বেড়ানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে এখন দেখা দিয়েছে ঘোর অমানিশা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রচলনের পর ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে পারছে না ক্যারিবিয়ানরা। চলতি বছর অক্টোবর–নভেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লিগে প্রথম সাত দলের মধ্যে থাকতে না পারা ক্যারিবীয় সামনে সুযোগ ছিলো বাছাইপর্ব উতরে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার। তবে জিম্বাবুয়ে আর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের পর সুপার সিক্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বাছাইপর্বের সুপার সিক্স থেকে বিদায় নিচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম দুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ক্যারিবিয় ক্রিকেটের এই দুর্দিনের জন্য নিজেদেরকেই দায়ী করছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। সাবেক এই ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার মনে করেন এই অধঃপতনটা অনেক দিন ধরেই। নিজেদের ভুলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডুবেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন–ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, সব দোষ এখনকার খেলোয়াড়দের দেওয়াটা অন্যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনটা শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই, ‘এই পতনটা একদিনে হয়নি, অনেক দিন ধরেই ক্যারিবীয় ক্রিকেট ধুঁকছে। আমরা গত এক যুগ ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সঙ্গে ভালো ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছি না। দুবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও টি–টোয়েন্টি দলের অবস্থা ভালো নয়।’
বিশপ পুরো ব্যাপারটির তুলনা করছেন বড় করপোরেট গ্রুপের পতনের সঙ্গে। ব্যবসা–বাণিজ্যের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনাই আছে যে নামী একটা ব্র্যান্ড বা ব্যবসা সময়ের সঙ্গে নিজেদের না বদলাতে পেরে অথবা কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে না পেরে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থাও এমনই। আর এজন্য ক্যারিবিয় ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দূরদর্শিতার অভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সত্তর ও আশির দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ছিল দারুণ শক্তিশালী। দুনিয়ার সেরা সব ক্রিকেটারের সমাবেশ ছিল দলটিতে। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে প্রথম দুটি বিশ্বকাপ তারা জিতেছে হেসেখেলেই। পরের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও ভারতের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হয়নি দলটির। ক্যারিবীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমস্যা অনেক দিনের। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশপ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।’