নাটোরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও ১১টি বাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ এলাকায় সহিংসতা হয়।
এতে আহত নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আব্দুল ওহাব, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও সেনা কমান্ডার ক্যাপ্টেন আরাফাত রহমান।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসলে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিএনপির কর্মীরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হাসিনুর রহমানসহ অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া ধানাইদহ গ্রামের সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম আলী, আব্দুস সোবাহান, নবীন আহম্মেদ, সিরাজুল ইসলাম, আল আমীন হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেনের বাড়ি এবং ধানাইদহ বাজারের একটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
এ ঘটনায় বিকেলে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটি। সেখানে লিখিত বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে বিষয়টি অবহিত করার কথা জানান।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে কোনো বিএনপি নেতা তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে নিষেধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
















