নাইজেরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এবং স্থানীয় বাহিনীর পেশাদারিত্ব বাড়াতে দেশটিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক সদস্য। মার্কিন সেনারা সরাসরি কোনো ফ্রন্টলাইন যুদ্ধে বা জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ না নিলেও, তারা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেবেন।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন সেনারা মূলত স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা ও রণকৌশল বাড়াতে কাজ করবেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনা ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি বিমান নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অবতরণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল দপ্তর জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে এই মার্কিন সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খ্রিস্টান অধিবাসীদের ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এর জবাবে নাইজেরিয়া সরকার স্পষ্ট করেছে যে: তাদের অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের পক্ষের বা বিপক্ষের নয়।
নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমানভাবে সক্রিয়।
গত ডিসেম্বর মাসে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গি আস্তানায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে একটি ছোট মার্কিন বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে আরও ২০০ জন মার্কিন সেনার নাইজেরিয়ায় আসার কথা রয়েছে।
প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ নাইজেরিয়া ধর্মীয়ভাবে প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত—অর্ধেক মুসলিম ও অর্ধেক খ্রিস্টান। ভৌগোলিকভাবে দেশটির উত্তরাঞ্চল মুসলিম প্রধান এবং দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান অধ্যুষিত। গত কয়েক দশক ধরে উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী, যার ফলে এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তাদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।