দেশের নদী, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি আরও গতিশীল ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের 'সেল' গঠন করেছে সরকার। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ৮ সদস্যের এই সেলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবগঠিত এই সেলের কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত থাকবে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই সেলের সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের। তারা হলেন—ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককেও এই সেলের সদস্য করা হয়েছে। পুরো সেলের সমন্বয় ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ‘সদস্য সচিব’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সেলের প্রধান কার্যাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সেলটি নদী-খাল ও জলাশয় খননের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় সাধন করবে এবং খনন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করে যেকোনো সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে। শুধু দাপ্তরিক কাজই নয়, নদী ও জলাশয় রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের দায়িত্বও এই সেলকে দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাজের প্রয়োজনে সেলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সদস্য কো-অপ্ট বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। সেলের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও সচিবালয় সুবিধা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।