ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী নয়াদিল্লি। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে যন্তর মন্তর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের অভিমুখে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলার পর একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিপেটা শুরু করে। পুলিশের এই মারমুখী অ্যাকশনে মিছিলটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে অন্তত ১৮০ জন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট আহত হন।
দাবি আদায়ে অনড় আন্দোলনকারীরা
মে মাসে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে অনলাইনে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে সোমবারের এই বৃহৎ পদযাত্রা প্রমাণ করে যে, এটি এখন দেশজুড়ে একটি ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সাফ জানিয়েছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরণ না হচ্ছে, ততক্ষণ এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থামবে না এবং আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়বেন না।’
সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই আন্দোলনকে তাদের ‘প্রথম বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে দিল্লির রাজপথে যখন এই তীব্র বিক্ষোভ ও পুলিশি নির্যাতন চলছিল, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও, আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে মোদি সরকারের ওপর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।