দাম আকাশচুম্বী তবুও মুহূর্তেই শেষ বিটিএসের কনসার্টের টিকিট

দীর্ঘদিন পর ফিরছে কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। ব্যান্ডটি সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ট্যুরের সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী এপ্রিলে হবে তাদের ওয়ার্ল্ড ট্যুর। এ উপলক্ষ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে তারা। তবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক লাখের বেশি ভক্ত অনলাইনে প্রবেশ করে। কিন্তু মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় গিয়ংগি প্রদেশের গোয়াংয়ে এপ্রিলের তিনটি কনসার্টের সব টিকিট!
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সদস্য হয়েও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে অনেকেই টিকিট মিস করেছেন।
এতেই বোঝা যাচ্ছে, বিটিএসের জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বী। কে-পপ কনসার্টের টিকিট পাওয়াও দিন দিন কঠিন হয়ে গেছে। দামও চমকে দেওয়ার মতো। গোয়াং কনসার্টের সবচেয়ে দামি টিকিট ২ লাখ ৬৪ হাজার ওনে (প্রায় ১৮৩ ডলার) বিক্রি হয়েছে। এটি ২০২২ সালের পারমিশন টু ডান্স অন স্টেজ কনসার্টের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
আর যদি ২০১৮ সালের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ছিল প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ওন, সেখানে এখন দাম বেড়েছে প্রায় ২৪০ শতাংশ।
কে-পপ শিল্পে এখন আর দুই লাখ ওনের বেশি দামে টিকিট বিক্রি ব্যতিক্রম নয়। ২০২২ সালে বিটিএস প্রথম দুই লাখের বেশি দামে টিকিট বিক্রি করেছিল। তখন তারা সাউন্ডচেক প্যাকেজ চালু করে। এ প্যাকেজের মাধ্যমে ভক্তরা কনসার্টের আগে শিল্পীদের রিহার্সেল দেখার সুযোগ পায়।
এরপর থেকে বড় এজেন্সিগুলোর মধ্যে এসব প্যাকেজ প্রায় নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়।
হাইবের নতুন গার্ল গ্রুপ ইল্লিট তাদের প্রথম ট্যুরেই মিট অ্যান্ড গ্রিট টিকিটের দাম রেখেছে সর্বোচ্চ দুই লাখ ৫৩ হাজার ওন। এনহাইপেনের সাউন্ডচেক টিকিটের দাম ছিল দুই লাখ ২০ হাজার ওন, মিট অ্যান্ড গ্রিট প্যাকেজ দুই লাখ ৫৩ হাজার ওন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন কনসার্ট মানে কেবল গান গাওয়া নয়। এখন কনসার্ট মানে বিশাল স্ক্রিন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, বিলাসবহুল স্টেজ ডিজাইন, আলো, ভিজ্যুয়াল ও প্রযুক্তির সমন্বয়। এসব কারণে প্রোডাকশন খরচ এখন আকাশছোঁয়া।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, স্টেজের যন্ত্রপাতি ভাড়া, পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ, দক্ষ টেকনিক্যাল কর্মীদের বেতন। অন্যদিকে স্টেডিয়াম বা ডোম কনসার্ট হলে খরচ আরও বাড়ে। বড় ভেন্যুতে সাধারণ হলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ নিরাপত্তা কর্মী লাগে।
গোয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক বসতে পারে। এটি কোরিয়ার অন্যান্য কনসার্ট ভেন্যুগুলোর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। ফলে নিরাপত্তা, কর্মী ও ব্যবস্থাপনার চাপও তত বেশি।
চমকপ্রদ হলেও সত্য, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় কোরিয়ায় কে-পপ কনসার্টের টিকিট এখনো তুলনামূলক সস্তা। জাপানে বিটিএসের ভিআইপি টিকিট শুরু ৪৫ হাজার ইয়েনে (প্রায় ২৯২ ডলার), যুক্তরাষ্ট্রে প্রিমিয়াম টিকিটের দাম উঠতে পারে ৮০০ ডলার পর্যন্ত।

















