দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

এবার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তি অমান্য করার অভিযোগে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন। বিবিসির খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে যে শুল্ক আছে, তা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য সব পারস্পরিক শুল্কের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনে ধীরগতি দেখাচ্ছেন, অথচ আমরা চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত আমাদের শুল্ক কমিয়েছি।
এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, তাদের কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনও নোটিশ পায়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে চায়।
দেশটির ভাষ্য, বর্তমানে কানাডায় থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গত অক্টোবরে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে। এর একটি অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ করার কথা ছিল।
পরের মাসে জানানো হয়- দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে।
চুক্তিটি ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) জমা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ফেব্রুয়ারিতে এটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পণ্যের শুল্ক আমদানিকারক কোম্পানিগুলোই বহন করে। ফলে এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
হোয়াইট হাউসে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রায়শই পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। শনিবার তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করা আটটি দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
পরে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং দ্বীপটি নিয়ে ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির’ অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তবে এই ঘটনায় ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।

















