আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’ নামে তিনটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাঠ্যবইয়ের ভাষা, প্রচ্ছদ ও অলংকরণেও নান্দনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
ইতিহাসের বইগুলোতে তথ্যনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনার লক্ষে বেশ কিছু নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ফোর্সগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবদান এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সম্যক ধারণা পাবে।
পাশাপাশি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়েও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির আইসিটি বই থেকে পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট বাদ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা ও হার্ডওয়্যারের মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো যুক্ত করা হবে।
এছাড়া শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব বিবেচনায় ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ও দাবার মতো খেলাধুলা এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হচ্ছে, যার মূল্যায়ন হবে মূলত শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ব্যবহারিক দক্ষতার ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ১৩৫টি বই পরিমার্জনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।