ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের জয়গান শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে নজর কেড়েছেন ২৫ বছর বয়সী তিন নারী প্রার্থী। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বয়সে প্রার্থী হয়েছেন তারা। তিন প্রার্থী হলেন- কুমিল্লা-৬ আসনে কামরুন্নাহার সাথী, ঢাকা-১৩ আসনে ফাতেমা আক্তার মুনিয়া এবং নরসিংদী-৫ আসনে তাহমিনা আক্তার।
ভিন্ন দল, ভিন্ন প্রতীক তিনজনই রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। কামরুন্নাহার সাথী লড়ছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) হয়ে, তার প্রতীক 'মই'। অন্যদিকে, ফাতেমা মুনিয়া ও তাহমিনা আক্তার ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’-এর প্রার্থী হিসেবে 'আপেল' প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
পেশা ও শিক্ষা হলফনামা অনুযায়ী, কামরুন্নাহার সাথী ও ফাতেমা মুনিয়া দুজনেই পেশায় ছাত্রী। সাথী আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করে এলএলএম-এ ভর্তির অপেক্ষায় আছেন। ফাতেমা ইংরেজি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার হলফনামায় নিজের পেশা লিখেছেন কৃষিকাজ, কারণ তার একটি গরুর খামার রয়েছে।
অর্থের চেয়ে আদর্শই বড় নির্বাচন মানেই যেখানে বিশাল অঙ্কের টাকা, সেখানে এই প্রার্থীদের সম্বল সামান্য। কেউ টিউশনি বা খামারের টাকা দিয়ে, আবার কেউ স্বামী ও সংগঠনের কর্মীদের সহায়তায় প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য—টাকা দিয়ে লোক না এনে তারা সততা ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে।
পরিসংখ্যান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৮৫ জন। তবে আশার কথা হলো, এসব নারী প্রার্থীর ৭৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং ৬৭ শতাংশ কর্মজীবী। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যাই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই লড়াকু তরুণীরা মনে করেন, তারুণ্যের স্পৃহা ও সঠিক নেতৃত্বই পারে দেশকে নিরাপদ রাখতে।