ঢাকায় ৫টা ৫৮ মিনিটে প্রথম ইফতার, প্রথম রোজার আমেজে ভাসছে সারাদেশ

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের অমিয় বাণী নিয়ে আবারও বাঙালির দুয়ারে হাজির হলো পবিত্র মাহে রমজান। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি); দীর্ঘ এক বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস। ভোরে মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে এক আধ্যাত্মিক আমেজ। প্রথম রোজার ক্লান্তি ছাপিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখেমুখে ছিল সংযমের দীপ্তি আর মনে ছিল পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি অর্জনের ব্যাকুলতা।
ভোর থেকেই ঢাকার রাজপথের চিরচেনা ব্যস্ততায় কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। নতুন সরকারি অফিস সূচি (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট) অনুযায়ী কর্মজীবীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তার কোলাহল অনেকটা স্তিমিত হয়ে আসে। তবে দুপুরের পর থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। বিশেষ করে চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে জিলাপি, পিঁয়াজু আর বেগুনি ভাজার ম ম ঘ্রাণ জানান দিচ্ছিল প্রথম ইফতারের প্রস্তুতির কথা। পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রথম রোজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিকেলের দিকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ রাজধানী ঢাকায় ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। তবে ইফতারের আগমুহূর্তে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে ছিল দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রথম দিন থেকেই নিত্যপণ্যের বাজার ছিল কিছুটা চড়া। বিশেষ করে শসা, বেগুন, লেবু এবং ভালো মানের খেজুরের দাম গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও শান্তিনগর বাজারে আসা ক্রেতাদের দাবি, প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথম রোজায় সিন্ডিকেটের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একাধিক টিম বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছিল, তখন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় বাড়তে থাকে। ছোট-বড় সবাই মিলে জায়নামাজ হাতে মসজিদের বারান্দায় বসে তসবিহ পাঠ ও বিশেষ দোয়া-দরুদে মগ্ন ছিলেন। ঠিক ৫টা ৫৮ মিনিটে যখন মিনারগুলো থেকে একসাথে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি ভেসে আসে, তখন পরম শান্তির এক নীরবতা নেমে আসে পুরো মেগাসিটিতে। এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত আর খেজুর মুখে দিয়ে দীর্ঘ সময়ের তৃষ্ণা মেটালেন লাখো রোজাদার।
প্রথম রোজার এই সমাপ্তি কেবল একটি দিনের শেষ নয়, বরং এক মাসব্যাপী আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের এক পবিত্র যাত্রার সূচনা। সারা দেশে আজ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

















