সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ (নেপথ্য নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী) ছিল বলে স্বীকার করেছেন ওই সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে তিনি নিজে সেই কেবিনেটের সদস্য ছিলেন না বলে স্পষ্ট করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র হিসেবে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ড. ইউনূসের ‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর, কারা এর সদস্য ছিলেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রসঙ্গের সূত্র ধরেই আজ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন আসিফ মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল, এটা সত্য। কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না।”
একই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে নিজের বা তাঁর দলের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি দাবি করেন, “আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিএনপির পরামর্শে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর দায় চাপাতে নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে এই চুক্তিটি করেছেন। মূলত এই চুক্তি বিএনপি এবং তারেক রহমান করিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই চুক্তির কোনো কিছু সংশোধন করতে চাইলে এখন বিএনপিই করুক, কিংবা চাইলে বাতিলও করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশই চুক্তি বাতিল করেছে, সেটা নতুন কিছু নয়।”
ক্রীড়াঙ্গনের সমসাময়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এবারের বিসিবি নির্বাচনে কেউ নিজের যোগ্যতায় কাউন্সিলর হতে পারেননি, সবাই এসেছেন বাবার পরিচয়ে। বিএনপি পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে পরিবারকরণ করেছে।” এর বিপরীতে নিজেদের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পূর্ণ যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদেরই বিসিবির কাউন্সিলর করা হয়েছিল।”