পুলিশের উপমহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) ফোনকল ও মেসেজ দেওয়ার সাত দিন পরেও কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের ভূঁইয়া। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে মোবাশ্বের ভূঁইয়া লেখেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিশ্চয় অফিস আদেশ আছে এমপিকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য। তা না হলে এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।"
ফেসবুক পোস্টে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের असहযোগিতার দুটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, "একজন কর্মকর্তাকে ফায়ার সার্ভিস বিষয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলে বসলেন, 'আপনার নির্বাচনী এলাকার আমার কিছু সিনিয়র অফিসার আছেন– তাদের কথাও তো মাঝে মাঝে শুনতে হয়।' আমি অবাক হয়ে ভদ্রলোককে প্রশ্ন করলাম, 'তারা কি আপনার কাছে এমপির থেকে বড় হয়ে গেলো?' প্রতিউত্তরে ভদ্রলোক যে নামটা উচ্চারণ করলেন সেই সাবেক কর্মকর্তা ২০০৮ সালে নৌকা মার্কার নির্বাচন করেছেন, ২০২৬ সালে এসে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।"
একই পোস্টে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই এমপি লেখেন, "চট্টগ্রামের ডিআইজি মহোদয়কে আমার নিজের মোবাইল নম্বর থেকে মেসেজ দিয়েছি, এমনকি কল করেছি; সাত দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, ভদ্রলোক উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।" জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে ছোট করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তথাপিও আপনাদের জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ আপনারা আপনাদের ভোট দিয়ে আমাকে মহান সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ঋণী।"
এই ফেসবুক বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মোবাশ্বের ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমি ফায়ার সার্ভিসের বিষয়ে কথা বলতে ফায়ার সার্ভিসের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) যুগ্মসচিব সারোয়ার হোসেনকে কল দিয়েছিলাম। তিনি আসবেন আসবেন বলে আর আসলেন না। হঠাৎ একদিন তিনি বললেন, 'আপনার নির্বাচনী এলাকার আমার কিছু সিনিয়র অফিসার আছে, তাদের কথাও তো মাঝে মাঝে শুনতে হয়।' আমি বললাম, 'কে সেই কর্মকর্তা?' তিনি বললেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাবেক পিএস তালেব আলীর কথা। আমি বললাম, তিনি কি এমপির থেকে বেশি?"
এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, "আমার এলাকার ফায়ার সার্ভিসের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলের দোসরদের কথা শুনবে? এ কেমন কথা? আমার এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। আমি তাদের কাছে দায়বদ্ধ। তাদের উন্নয়নে কারা বাধা দিচ্ছে জানালাম।"
ডিআইজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি ডিআইজি সাহেবকে ঢাকায় দেখে কথা বলেছিলাম। বললাম, 'আমার নির্বাচনী এলাকা তো আপনারই রেঞ্জের। আমার এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আপনার সাহায্য প্রয়োজন।' তারপর তাকে কল দিয়েছি। মেসেজ দিয়েছি। সাত দিন পার হলেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি। সাধারণ একজন মানুষ সহযোগিতা চাইলে কী হবে সেটি ভাবছি। তারপরও আমি মনে করি তিনি ব্যস্ত ছিলেন। ফ্রি থাকলে হয়তো কোনোদিন কল দেবেন।"
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বিকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দুবার এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে একবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এই বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।