টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন নাকি রূপকথার কোনো মহাকাব্য বলা ঠিক হবে টাইগারদের এই বিজয়কে? ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
ডারউইনের মাররারা ওভালে ম্যাচের চতুর্থ দিনে অজিদের গুঁড়িয়ে দিয়ে এই অবিস্মরণীয় গৌরব অর্জন করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে এসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষদলকে তাদেরই আঙিনায় এভাবে হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও গৌরবময় জয়।
প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের তোপ ও তানজিদের সেঞ্চুরি
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা দেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তার ক্যারিয়ার সেরা ৫৫ রানে ৬ উইকেটের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৯৮ রানেই অলআউট হয় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া।
জবাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলে রানের পাহাড়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম তার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই হাঁকান এক অনবদ্য ও ম্যাজেস্টিক সেঞ্চুরি (১০১ রান)। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের লড়াকু ৬৫ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের স্পিন জাদু ও গ্রিনের ব্যর্থ লড়াই
২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে প্যাট কামিন্সের দল। অজি শিবিরের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। স্টিভ স্মিথ (৪৪), অ্যালেক্স কেরি (৩০) এবং কামিন্সকে ফিরিয়ে তিনি ৬৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ২০১ বলে ১০৪ রানের একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে অজিদের ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু লাঞ্চের পর হাসান মাহমুদের বলে তিনি বোল্ড হতেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ২৮৪ রানে, যার ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। ম্যাচে মোট ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন হাসান মাহমুদ।
মুমিনুল-শাদমানের ব্যাটে ঐতিহাসিক জয়
মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান খাতা খোলার আগেই জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। তবে অভিজ্ঞ মুমিনুল হক (৩০*) এবং ওপেনার শাদমান ইসলাম (২৫*) অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে বো ওয়েবস্টারকে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুল হক বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
অবিশ্বাস্য বিজয়ের পর বাংলাদেশ দলকে ভিডিও কলের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অকপটে স্বীকার করেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সব বিভাগেই আউটপ্লে করেছে।’