২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারারুদ্ধ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
চলতি সপ্তাহে কারাগারে ইমরানের সাথে দেখা করেন তার আইনজীবী সালমান সাফদার। পরে তিনি দেশটির প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানান আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সালমান বলেন, ‘ইমরানের ডান চোখ মাত্র ১৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।’
এতে ইমরানের আইনজীবীরা জোরদার আপত্তি তোলেন ও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ-আশংকা প্রকাশ করেন। বেশ কয়েক সপ্তাহ বাইরের কোনও মানুষের সাথে দেখা করার অনুমতি পাননি ইমরান খান।
সালমান সাফদার জানান, ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করে কথা বলার সময় লক্ষ্য করেন, নেতা বারবার চোখ মুছছেন। তার চোখে বারবার পানি চলে আসছিল।
সাক্ষাতের সময় ইমরান খান চোখ জ্বালাপোড়া ও ভালো করে দেখতে না পাওয়ার অভিযোগও করেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
ইমরানের ছেলে কাসিম খান জানান, ‘আটক অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার’কারণে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ইচ্ছে করেই ইমরানকে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কাসিম।
বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে ইমরানপুত্র লিখেন, ‘ক্ষমতাসীন দল, সেনাপ্রধান ও তাদের হাতের পুতুলরা এসব নির্দয় আচরণের জন্য দায়ী।’
ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও তারা দুজনই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একটি মামলা সূত্রে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে কারাগারে ইমরান খানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ২০২৩ সাল থেকে ওই মামলার কার্যক্রম মুলতবি আছে।
কর্তৃপক্ষ এর আগে জানায়, গত জানুয়ারিতে ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতালে ২০ মিনিটের একটি ‘চিকিৎসা প্রক্রিয়ার’মধ্য দিয়ে গেছেন ইমরান খান।
তবে তাকে কোন রোগের জন্য কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। কারাগারে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি ইমরান।
আইনজীবী সালমান আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কারাগারে তার থাকার পরিবেশ আরও উন্নত করা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।
২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর অনাস্থা ভোটে পদ হারান তিনি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়।
২০২৩ সালে তাকে গ্রেফতারের পর দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব বিক্ষোভের জেরে হাজারো মানুষ গ্রেফতার হন।