জেনেভায় দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরুর দিনই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
তুরস্কের সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনি বলেছেন- পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব।
তেহরানে এক অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ বলে দাবি করেছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা বলছে। যুদ্ধজাহাজ নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক—তবে এমন অস্ত্রও রয়েছে, যা সেই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।
সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে খামেনি এমন মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে। কোনো চুক্তি না হলে এ রণতরী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে এবং এটি শিগগিরই রওনা দেবে।’
মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার ইতোমধ্যেই পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে। দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে গেল মাসে সেগুলো পাঠানো হয়।
চলমান আলোচনার বিষয়ে খামেনি বলেন, আলোচনা চলার সময় আগেভাগে এর ফল নির্ধারণ করে নেওয়া ‘ভুল এবং বোকামি।’
মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা মঙ্গলবার জেনেভায় শুরু হয়েছে। এর আগে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের শুরুতে মাসকাটে উভয় পক্ষ আবার কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে।
রোববার এক বক্তব্যে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদোল রহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য ‘একটি শিক্ষা’ হয়ে দাঁড়াবে।