আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সকল সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে। শুরুতে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে তাদের তুলে নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সাধারণ নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমানে তারা মূলত ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তামূলক ভূমিকা পালন করছে। সেনাবাহিনী এখন আর নিজস্ব ক্ষমতায় গ্রেপ্তার বা সরাসরি আইনি পদক্ষেপে অংশ নিচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করেছিল, যা নির্বাচনের পর এখন আর কার্যকর নেই।