
আগামী অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রস্তাবিত এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ ৫৭৯ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতার সমালোচনা: বাজেট উপস্থাপনকালে দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, "আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা একটির শপথ নিলেন, আরেকটির নিলেন না। গণভোটকে তারা অস্বীকার করলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সরকার জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করে মানুষকে অপমান করেছে। বর্তমানে দেশের আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবাদিকতাসহ সমস্ত জায়গায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট এবং অপরাধী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জনগণের বাজেট ও বাস্তবায়নের শর্ত: বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা এই বাজেট কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের জন্য। তবে আমাদের এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের মূল শর্ত হচ্ছে সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা। এই গুণগুলো না থাকলে সরকার যে বাজেটই ঘোষণা করুক না কেন, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।"
অর্থবছর পরিবর্তনের দাবি ও ‘গণলুটপাট’ প্রসঙ্গ: উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির অর্থবছর পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা, খরা কিংবা সাইক্লোনে আক্রান্ত থাকে। আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) একটা বিশাল অংশ বছরের শেষ দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়। এটি আসলে কোনো বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণলুটপাট। এর কোনো সুফল জনগণ পায় না।"
এই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাওয়া বন্ধ করতে তিনি দেশের অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ার বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর অনুযায়ী করার দাবি জানান। তিনি বলেন, "আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের অর্থবছর যেন ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের ট্যাক্সের টাকাগুলা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না।"