জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে ব্যাপক দরকষাকষির মধ্যে জরুরি বৈঠক বসেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ এই জোটের দলগুলোর নেতারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে জরুরি এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি নেই। বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা আছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয় নাই, বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলছে।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, 'গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের এক বাক্স নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। '
'নেতৃবৃন্দ বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবেই জাতিকে অবহিত করবে।'
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সমঝোতার আলোচনায় থাকা ১১ দলের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে অবিশ্বাস ক্রমেই বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বুধবার এই অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়, যখন হঠাৎ করেই সমঝোতায় থাকা দলগুলো পূর্বনির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলোর চূড়ান্ত আসন ভাগাভাগির ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা জানান, সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণার বিষয়টি তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে।