জামায়াতে ইসলামীর কাছে “ইনসাফ না পেয়ে” তাদের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া’র বিষয়গুলো সামনে এনেছে দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমের ‘আদেশে’ সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা বলেছেন গাজী আতাউর।
তিনি বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে সারা দেশে ২৭০ আসনের মধ্যে আমাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ২৬৮টি। সেই ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। ইসলামপন্থি শক্তির সকল ভোট একবাক্সে ফেলতে চাই।’
আতাউর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের আমির আমাদের সাথে আলোচনা না করে বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সমঝোতা ভাগাভাগি করার কথা বলেছেন। এর পরে আমাদের মধ্যে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে—এই নির্বাচন পাতানো হবে কি না।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আপিল নিষ্পতির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে যে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গড়ে ওঠে, তার সূচনা ঘটে ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে শুরু হয়েছিল সেই যুগপৎ আন্দোলন।
শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল এই মোর্চায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং তার পরদিন এবি পার্টি এই জোটে যোগ দেয়।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল এনসিপির জোটে আসা নিয়ে আপত্তি তোলে। শেষ পর্যন্ত মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে রাজি করানো গেলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াত জোটের দূরত্ব বেড়ে যায়।
গত দুই সপ্তাহে আগামী নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারছিল না ইসলামী আন্দোলন। তাদের দাবি ছিল দেড়শর বেশি আসন। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের’ বৈঠকে যায়নি দলটি।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এসে ৮টি দলের আসন ভাগাভাগির হিসাব তুলে ধরেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। ওই ঘোষণায় ইসলামী আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি।