কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়ার পর এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এই জয়কে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফজলুর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, "সমস্ত রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এই নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত করে প্রথম প্রহরের ফজরের নামাজের পর মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছি। এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পক্ষে জনতার স্পষ্ট রায়।" একইসঙ্গে দেশের মূলভিত্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লেখেন, "স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু—এসবই স্বাধীন বাংলার অস্তিত্ব।"
সংসদীয় জীবনে জনগণের আস্থার মর্যাদা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, জাতীয় সংসদে তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক অটল প্রদীপ হয়ে কাজ করবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের মর্যাদা, আস্থা ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই জয়কে তিনি কখনোই ক্ষুণ্ণ হতে দেবেন না।
তবে বিশাল এই জয়ের আনন্দের মাঝেও একটি ঘটনায় বিষণ্ণতা প্রকাশ করেছেন ফজলুর রহমান। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি আক্ষেপ করে জানান, কোনো অপরাধ ছাড়াই তাঁর এক কর্মীকে দুই বছরের জেল দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর জয়ের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। ওই কর্মীর দুটি ছোট সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ‘কালো শক্তিকে’ খুশি করতেই এই সাজা প্রদান করা হয়েছে। এই অবিচারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।