জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফসহ কয়েকজন সাংবাদিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলছিল।
এ সময় জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ সমসাময়িক বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
তখন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকে অপসারণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকেরও মদদ ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জকসুর জিএস।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। আমরা দেখেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তারা মব করার চেষ্টা করেছে। একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারা মব কালচার করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তারা যখন শিক্ষার্থীদের আবাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মুখে, নাকে, পায়ে ও হাতে লাথি মারা হয়েছে। তারা নির্বিচারে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজন সদস্যকে আহত করেছে। ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখও আহত হয়েছেন।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া অগণতান্ত্রিক। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ‘দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধে’ প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাইয়ের একটি প্রোগ্রাম চলছিল। এমন সময় বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি, জুলাইবিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।