নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এই আদেশ দেন।
নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য প্রসিকিউশন থেকে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিনের মঞ্জুরি দেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী শিশুটি যখন সন্তান প্রসব করবে, তখন যেন ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটি ইতিমধ্যে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামি আমান উল্লাহ সাগর চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে শিশুটি পড়াশোনা করত। গত ১৮ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। এরপরই গত ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব।
এদিকে, ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা নারী চিকিৎসককে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং এ ব্যাপারে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।