ছাত্রলীগ নেতাদের দুই কোটি ‘ঈদ সেলামি’র তদন্ত ফাইল উধাও!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাদের ২ কোটি টাকা ‘ঈদ সেলামি’ বা চাঁদা দাবির আলোচিত সেই ঘটনার তদন্ত ফাইল খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে গায়েব হয়ে গেছে। ২০১৯ সালে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও গত ৬ বছরেও সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো এখন জানা যাচ্ছে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ফাইলগুলো ইউজিসি থেকে নিখোঁজ হয়েছে, যা নিয়ে খোদ সংস্থাটির ভেতরেই তোলপাড় চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে, যখন জাবির উন্নয়নের জন্য এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালে ছয়টি আবাসিক হলের কাজ শুরু হলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে ২ কোটি টাকা ‘ঈদ সেলামি’ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে শোভন ও রব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তৎকালীন উপাচার্য চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন, তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে নেতারা তার কাছে কমিশন চেয়েছিলেন।
এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০১৯ সালেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি। কমিটির দায়িত্ব প্রথমে অধ্যাপক দিল আফরোজ বেগম এবং পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরের ওপর বর্তালেও নানাবিধ কারণে তদন্ত এগোয়নি। ২০২২ সালে অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে কমিটি পুনর্গঠন করা হলেও ৪ বছরেও কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে পুনরায় তোড়জোড় শুরু হলে দেখা যায়, তদন্তের কোনো ফাইল বা নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নথি গায়েবের ঘটনায় সম্প্রতি ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্লানিং এন্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আকরাম আলী খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে একে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত আকরাম আলী খানের দাবি, তিনি ফাইলটি তৎকালীন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাসের টেবিলে রেখেছিলেন এবং এরপর সেটি আর ফেরত পাননি। অধ্যাপক বিশ্বজিৎ বর্তমানে বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ৬ বছর ধরে তদন্তে গড়িমসি এবং শেষমেশ ফাইল নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি প্রভাবশালী মহলের চাপে এই আলোচিত দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে?
















