কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে পৃথক দুটি ঘটনায় ছাত্রদলের দুই কর্মী এবং বিএনপির দুই নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছাত্রদল কর্মীদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং বিএনপি নেতাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাছৌ গ্রামে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দুই ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন—ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ইউসুফ হোসেন আরিফ জিয়ার ছেলে আরাফাত হোসেন বিজয় এবং মিথিল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল আমিন জানান, আটককৃতদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের খাটোরা গ্রামে ভোটার স্লিপ ও টাকাসহ দুই বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন—গুণবতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফকির মেম্বার।
জামায়াত নেতা ডা. মনজুর আহম্মদ শাকি অভিযোগ করেন, আব্দুল মান্নান ও ফকির মেম্বার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিলি করছিলেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকার নোটের দুটি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়। পরে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করলে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
টাকা বিতরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুণবতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ সাজানো একটি ঘটনা। আমাদের কর্মীরা সকালে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন, সেখান থেকেই তাদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। তারা কোথাও ভোট কিনতে যাননি।"
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে তারা তৎপর রয়েছে।