চিরকুটে ‘কাফন ছাড়া দাফন দিমু’, চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল হামলা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুধু বিস্ফোরণই নয়, বাড়িতে পলিথিনে মোড়ানো দাফনের কাপড় ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে একটি চিঠির (চিরকুট) মাধ্যমে ওই চেয়ারম্যানকে বীভৎস কায়দায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার পর উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের কালীগাছতলা এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীর বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী একইসঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে চেয়ারম্যানের বাড়ির আঙ্গিনা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত দেখতে পান। পরে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো দাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়।
দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া চিরকুটে চেয়ারম্যানকে ‘দালাল’ সম্বোধন করে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল:
“মফিজ আলম মুন্না (দালাল মুন্না), তুই যা খাওয়ার খাইয়া লইস, যা করার কইরা লইস। তুই আগুন নিয়া খেলছত, হাত তো তোর পুড়বই। চাইছিলাম তোরে কাফন ছাড়া দাফন দিমু, কিন্তু না, ওপরের নির্দেশে তোকে কঠিন থেকে কঠিন মৃত্যু দিমু। তাই আজ তোর বাড়িতে পায়ের ধুলো দিয়ে গেলাম।”
চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যানের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে কি না এবং কেউ তার জানাজা পড়তে পারবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। জনৈক ‘সৈনিক’ এই কাজের জন্য যথেষ্ট বলেও চিরকুটে দম্ভোক্তি করা হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, “রাত ১১টার পর হঠাৎ বিকট শব্দ পাই। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেই। পরে প্রশাসন এসে দুটো চকলেট বোমা ও দাফনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ও অবিস্ফোরিত বোমার অংশবিশেষ এবং দাফনের কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

















