সুরের জাদুতে দীর্ঘ দুই দশক ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন শ্রেয়া ঘোষাল। ‘মেরে ঢোলনা’র মতো ধ্রুপদী ঘরানার গান হোক কিংবা ‘চিকনি চামেলি’র মতো চটুল আইটেম সং—সবখানেই তার কণ্ঠের সমান বিচরণ। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে বড় এক সিদ্ধান্তের কথা জানালেন গায়িকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ‘চিকনি চামেলি’র মতো ‘সাজেস্টিভ’ বা ইঙ্গিতপূর্ণ কোনো গান তিনি আর রেকর্ড করবেন না। অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক ছাড়ার গুঞ্জনের পর শ্রেয়ার এই ঘোষণা বিনোদন জগতে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
শ্রেয়া জানান, ‘চিকনি চামেলি’ গানটি যখন তিনি গেয়েছিলেন, তখন সেটি গাইতে বা পর্দায় ক্যাটরিনা কাইফের উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো অস্বস্তি ছিল না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিণতিবোধ বদলেছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন, সেই সময়ে অনেক গানের কথার গভীর অর্থ বা দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিত তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারতেন না।
গায়িকার মতে, ‘চিকনি চামেলি’ জনপ্রিয় হওয়ার পর তার কাছে এমন অনেক গানের প্রস্তাব আসে, যেখানে নারীকে ‘অবজেক্টিফাই’ করা হয়েছে বা পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি এক গীতিকার বন্ধুর গানে ‘আমাকে চিকেন বানিয়ে খেয়ে নাও’—এমন অশালীন চটুল পঙ্ক্তি থাকায় তিনি সেই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন শ্রেয়া। তিনি জানান, কোনো গান জনপ্রিয় হলে সেটি বিভিন্ন মঞ্চে পরিবেশন করতে হয়। কিন্তু গানের কথায় যদি আপত্তিকর কোনো ইঙ্গিত থাকে, তবে শিশুদের সামনে সেই গান গাইতে তার ভীষণ অস্বস্তি হয়।
যদিও আগে রেকর্ড করা গান হিসেবে মঞ্চে এখনো ‘চিকনি চামেলি’ গানটি তিনি গেয়ে থাকেন, তবে ভবিষ্যতে এমন কোনো গান আর রেকর্ড না করার বিষয়ে তিনি অনড়। নারীদের সম্মানহানি করে এমন গানের পরিবর্তে এখন থেকে গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে চান এই সুরেলা কণ্ঠী।