চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গায় ‘ককটেল বানানোর সময়’ বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৫টার দিকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামে বিস্ফোরণ হয়। ওই গ্রামের কালাম নামের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই বাড়ির ইটের দেয়াল ধসে পড়েছে, উড়ে গেছে টিনের চাল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, ‘বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতরা হলেন, ফাটাপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান (২০) ও মিনহাজ (৫২), অন্যজন রানীহাটির রামচন্দ্রপুর এলাকার ধুমি গ্রামের মো. শুভ (২০)। তাদেরকে রাজশাহীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শংকর কে বিশ্বাস।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, ভোরবেলা ৫টা-৫.৩০টার দিকে এখানে বিকট শব্দ হয়। ককটেল বিস্ফোরণ বা বোমা বিস্ফোরণের মতো শব্দ।’
‘আমাদের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট আসছে, তারা আসার পরে এই ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবেন। আরও কোনও আলামত বা অবিস্ফোরিত কিছু আছে কি না সেটা দেখার পর আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করব।’ বলে পুলিশ সুপার।
তিনি আরও জানান, ‘আমরা লাশের কাছে যেতে পারিনি, লাশগুলো বিকৃত অবস্থায় আছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে, ককটেল তৈরি বা মজুত করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে পরে জানাতে পারব।’
স্থানীয় চরবাটান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শব্দ শোনার পর তাৎক্ষণিক আমার চৌকিদারকে খোঁজ নিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যই এই বোমাগুলো তৈরি করা হচ্ছিল। যেহেতু ঘটনাটি ঘরের ভেতরে ঘটেছে এবং ঘরের টিন উড়ে অনেক উঁচুতে উড়ে গেছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি বোমা বানানোর সময় ঘটেছে। কালামের তেমন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে সে দুলালের কথা মতো চলত। এই বাড়িটি নিরিবিলি হওয়ায় তারা বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ মনে করেছিল।’
তিনি এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করারও দাবি জানান।