চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত, আহত ২

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় এক যুবদল নেতা ও তার চাচাতো ভাইকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ১ নম্বর দক্ষিণ কালিবাজারের রাইচো ভূঁইয়া বাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে ও যুবদল নেতা মো. উমর ফারুক ভূঁইয়া এবং তার চাচাতো ভাই তাইফুল হক।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালির বাজার এলাকায় মাসুম নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। যুবদল নেতা উমর ফারুক এই অপকর্মের প্রতিবাদ ও বাধা প্রদান করলে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বুধবার মাগরিবের নামাজের পর মাসুমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে করে উমর ফারুকের বাড়ির সামনে এসে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি ও সুইচগিয়ার দিয়ে উমর ফারুকের কাঁধ, পেট ও পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চাচাতো ভাই তাইফুল হকও হামলার শিকার হন।
আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তাইফুল হকের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা মাসুমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত এই হামলা চালিয়েছে। যুবদল নেতা উমর ফারুকও একই দাবি করে বলেন, স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত মাসুম ও তার সহযোগীরা এই হামলা সংঘটিত করেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—বল্লবপুরের মাসুদ আল হাসান মাসুম, হাতকাটা বাইল্লা, রেন্ডি মামুন, অপু, ইউছুফ, আবুল কালাম, আনিস ও মিজান। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত মাসুমের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলা রুজু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















