২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সমাপ্তির পর ফুটবল সংস্থা ও নিজের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সোমবার নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৫ স্লাইডের একটি দীর্ঘ খোলা চিঠি পোস্ট করে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান। তার চিঠি পরে ফিফার অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকেও শেয়ার করা হয়।
বার্তায় ইনফান্তিনো কড়া ভাষায় বলেন, ‘যারা আমাদের ঘৃণা করতেই সময় ও শক্তি ব্যয় করছেন, তারা একটু থামুন। আত্মসমালোচনা করুন, ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন কিংবা একটি ফুটবল ম্যাচ দেখুন এবং মানুষের মুখ, চোখ ও আবেগগুলো সত্যিকার অর্থে পর্যবেক্ষণ করুন।’
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সমালোচক ‘কলম, কাগজ ও স্ক্রিনের আড়ালে বসে’ শুধুই ঘৃণা এবং মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা সভাপতির এই ক্ষোভ প্রকাশের পেছনে টুর্নামেন্টজুড়ে চলা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক জড়িয়ে রয়েছ।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের বিতর্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনুরোধ বা হস্তক্ষেপের পর মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এটিকে ‘নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অন্যায্য’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও এই নিয়ে ফিফার নীতি কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইনফান্তিনো অবশ্য এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘বিতর্কিত রেফারিং কিংবা অদ্ভুত শাস্তিমূলক রায় বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটনা এবং সেগুলো সাধারণভাবে মেনে নেওয়া হয়।’
ইনফান্তিনোর দাবি, এবারের বিশ্বকাপ ছিল ‘শতভাগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ এবং এতে ‘কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা’ ঘটেনি। তবে ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এবং সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচসহ বিভিন্ন ম্যাচে উগ্র আচরণের দায়ে একাধিক সমর্থক গ্রেফতারের ঘটনাটি বর্তমানে ফিফার তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যক্তিত্ব আইশোস্পিডের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।
টুর্নামেন্ট চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতির কারণে ইরান, হাইতি, সেনেগাল এবং আইভরি কোস্টের মতো দেশের সমর্থক ও কর্মকর্তারা ব্যাপক জটিলতায় পড়েন। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে তো যুক্তরাষ্ট্রেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই নিজের দলকে এই বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত দল’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, সমালোচকরা অল্প কিছু ভিসা না পাওয়ার ঘটনা বড় করে দেখছেন, কিন্তু লাখো মানুষের ভিসা পাওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করছেন।