রাজধানীর বারিধারার ‘ডি মাজেন্ড গির্জায়’ দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে ফাদারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) ভাটারা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) ও রিকশাচালক আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত। মূলত জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা গির্জায় এই দুঃসাহসিক ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুজন মাস্ক পরা অবস্থায় গির্জার সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকে। তারা প্রথমে স্টাফদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। আলমারি ভেঙে নগদ আড়াই লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র লুট করে তারা পালিয়ে যায়।
তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার সন্দেহজনক ঘোরাফেরা শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রিকশাচালক আক্তার হোসেন মনাকে গ্রেফতারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি এম তানভীর আহমেদ বলেন, "সম্প্রতি ইস্টার সানডে উদযাপন হওয়ায় তারা ভেবেছিল গির্জায় অনেক টাকা জমা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মুগদা থেকে রিকশা নিয়ে তারা বারিধারায় আসে। রিকশাচালক বাইরে পাহারায় ছিল এবং বাকি দুজন ভেতরে ঢুকে দস্যুতা চালায়।"
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার হাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মিজান ও মনিরের বিরুদ্ধেও দস্যুতা ও মাদকের মামলা রয়েছে। অনলাইন জুয়ার নেশায় তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চুরি ও ছিনতাই করে আসছিল।