ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় এবং আগামী ডিসেম্বরে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পানি বণ্টন ইস্যুটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়বে না। তবে ঢাকা চায় ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান। অন্যদিকে, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, "বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় ৫৪টি নদীর হিস্যা নিয়েই আমাদের আলাপ–আলোচনা চলছে। অল্প সময়ে সব শেষ করা সম্ভব না হলেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।"
এদিকে নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, তিন দশক আগের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি কার্যকর ছিল এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নবায়ন করা হবে। তবে তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে এটি আটকে আছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার ফলে চুক্তিতে কোনো গতি আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম মনে করেন, শুধুমাত্র পানির ন্যায্য হিস্যাই নয়, অভিন্ন নদীগুলো দিয়ে যেন দূষিত পানি বাংলাদেশে না আসে সেটিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
যৌথ নদী কমিশনের তথ্যমতে, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৪০৫টি নদীর মধ্যে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী। এর মধ্যে ৫৪টি ভারতের সাথে অভিন্ন। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার এই নদীগুলোর পানির ওপর বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ অনেকাংশে নির্ভরশীল।