শনিবার ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহতের প্রতিবাদে রোববার থেকে পাকিস্তানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের পর সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আহত হয়েছে আরও অনেকে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়।
সোমবার ভোরের আগেই গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের উত্তরে গিলগিট, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে সেখানে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে গিলগিটে ৭ জন এবং স্কারদুতে ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারী ও চিকিৎসকরা।
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।
হামলা হয়েছে জাতিসংঘের অফিস ও সরকারি স্থাপনায়
স্কারদুতে বিক্ষোভকারীরা ভারত ও পাকিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দল এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গিলগিটে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়াসহ স্কুল ও স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
নিরাপত্তা জোরদার, কূটনৈতিক সতর্কতা জারি
বিক্ষোভের মুখে করাচি, লাহোর ও পেশোয়ারে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসসহ সব কনস্যুলেটে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।
গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাবির মির জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ প্রধান আকবর নাসির খান ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি’ উল্লেখ করে বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।