খামেনির মৃত্যুতে খুশি ভাগ্নে মাহমুদ মোরাদকানি!

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানি জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার ভাগ্নে মাহমুদ মোরাদকানি। ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন যাপন করা এই চিকিৎসক বর্তমানে ইরান শাসনের কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত। খামেনির প্রয়াণকে তিনি ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে নিজ বাসভবন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মাহমুদ মোরাদকানি বলেন, “বেশিরভাগ ইরানির মতো আমিও আজ অত্যন্ত খুশি। খামেনির মৃত্যুর ঘটনা আমার কাছে এক ধাপ অগ্রগতি এবং বড় একটি আশা।” তিনি মনে করেন, এই মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে ৬২ বছর বয়সী মোরাদকানি কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “যুদ্ধ এবং সামরিক হস্তক্ষেপ যে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দেয়, যা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে সম্ভবত আমাদের এই কঠিন ধাপটি পার হওয়ার প্রয়োজন ছিল।” তিনি বিশ্বাস করেন, খামেনির অনুপস্থিতিতে বর্তমান শাসনব্যবস্থা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।
মোরাদকানির মতে, ইরান প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সামাল দেওয়া বর্তমান কর্তৃপক্ষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শেষ পর্যন্ত তাদের সরে যেতে হবে এবং ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিতে হবে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সামরিক সংঘাত দ্রুত বন্ধ হবে যাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে নির্ভয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। তার মতে, বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে মানুষকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানানো কঠিন হলেও, শাসনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

















