ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন প্রতিথযশা অনুসন্ধানী সাংবাদিক সালীম সামাদ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিকেলে রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে সালীম সামাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ২০০২ সালের ২৯ নভেম্বর সালীম সামাদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে মৃত্যুর আগে নিজেই বলে গেছেন। ওই সময় দিন পঞ্চাশেক পর তিনি কারামুক্ত হন।
গত ৭ অক্টোবর ফেইসবুক পোস্টে সালীম সামাদ বলেন, ২০০৪ সালে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এর ছয় বছর বাদে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে দেশেই অবস্থান করছিলেন।
সালীম সামাদের মৃত্যুর পর লেখক মহিউদ্দিন আহমদ ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘সুহৃদ সালীম সামাদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তাঁর মতো সাহসী সাংবাদিক আমার চোখে পড়েনি। তাঁর আত্মার শান্তি হোক।’
১৯৫২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সালীম সামাদ। পড়াশোনা করেন শাহীন স্কুলে। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ১৯৭৬ সালে। দেড় যুগ পর ১৯৯৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
এর মাঝে ১৯৯১ সালে পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক অশোকা ফেলোশিপ পান। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় পড়েছেন ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাডভোকেসি ইনস্টিটিউটে (১৯৯৬)।
সালীম সামাদের লেখা প্রকাশিত হয়েছে টাইম ম্যাগাজিন, ইন্ডিয়া টুডে, আউটলুক, আল জাজিরা, হেরাল্ড ম্যাগাজিন, সাউথ এশিয়া ম্যাগাজিন, ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, ডেইলি এশিয়ান এজ, উইকলি ঢাকা কুরিয়ার এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউ-এ।
দক্ষিণ এশিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সালীম সামাদের ৩৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি সংঘাত, নিরাপত্তা, জোরপূর্বক অভিবাসন, ইসলামি জিহাদ, সুশাসন, নির্বাচনি গণতন্ত্র এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। কর্মজীবন তিনি বহু সম্মাননা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
ইউএসএআইডি, ইউনিসেফ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন, দুবাই কেয়ার্সসহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থার গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন সালীম সামাদ।