১৯৪৮ সালের মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে তার পুরনো বন্ধু এডি জ্যাকবসন তৎকালীন জায়নবাদী সংস্থার শীর্ষ নেতা চাইম উইজম্যানের সাথে দেখা করতে অনুরোধ করেছিলেন। উইজম্যান পরবর্তীতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সে সময় ইহুদিবিদ্বেষী ট্রুম্যান প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি উইজম্যানের সাথে দেখা করতে রাজি হন এবং স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানান।
১৯৪৮ সালের ১৪ই মে, ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। এর মাত্র ১১ মিনিট পর, ট্রুম্যান নতুন ইহুদি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন। তার অধীনস্থ কূটনীতিকরাও অবাক হয়ে যান, কারণ তারা ভাবতেই পারেননি একজন ইহুদি বিদ্বেষী হয়েও প্রথম বিশ্ব নেতা হিসেবে ইসরায়েলকে সমর্থন করবেন তিনি।

১৯৫০ এর দশকে, পশ্চিম এশিয়া শীতল যুদ্ধের কবলে পড়ে। আরব জাতীয়তাবাদ বাড়তে থাকে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র একে কমিউনিজম ভেবে ভুল ব্যাখ্যা করেছিল। তাই, আমেরিকা এই অঞ্চলে সোভিয়েত প্রভাব কমাতে মিত্র খুঁজতে থাকে । সৌদি আরব এবং ইরান ছিল তাদের প্রধান পছন্দ। পরে মার্কিনিরা সৌদি আরবকে বশ মানাতে পারলেও ইরান তাদের পাত্তা দেয়নি।
১৯৫৬ সালে, ইসরায়েল, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স সুয়েজ খাল দখল করার জন্য যৌথভাবে মিশর আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ১৯৬৭ সালে আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু মাত্র ৬ দিনে ইসরায়েল আরব সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে। এই যুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৭৩ সালে, আরব দেশগুলো আবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ ঘোষণা করে। এবার যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র’র সাহায্য ছাড়া ইসরায়েল এই যুদ্ধে জিততে পারত না।
১৯৭৮ সালে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার ক্যাম্প ডেভিডে একটি ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করেন। যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন এবং মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত উপস্থিত ছিলেন। ১৩ দিন আলোচনার পর, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় মিশর।
১৯৮০ এর দশকে, রোনাল্ড রিগ্যান ইসরায়েলকে সামরিক সহযোগিতার উপর জোর দেন। তারই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বার্ষিক ১.৮ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিতে শুরু করে। ১৯৯০ এর দশকে, ওসলো চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
২০০১ সালে ৯/১১ এর ঘটনা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য ৫০ বারের বেশি ভেটো দিয়েছে। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করেন এবং গোলান মালভূমির উপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা চায়। কিন্তু ৭৫ বছর ধরে বিনিয়োগের পর, যুক্তরাষ্ট্র কি এই সম্পর্ক থেকে তার প্রত্যাশিত ফল পাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে ভবিষ্যত।