নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের কাজ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। লুকোচুরির কোনো সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষ অবলম্বন না করে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।’
সোমবার সকালে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা—এই তিনটি শর্তের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, 'বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করা। অতীতে মাঝপথে সৃষ্ট ছোটখাটো সমস্যাগুলো অনেক সময় মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এবার সে জায়গায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'
তিনি মন্তব্য করেন, বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে শুধু নির্বাচন কিংবা নির্বাচন কমিশনই নয়, বরং দেশের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কলঙ্কিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।'
'জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল সত্যিকারের গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং বারবার খারাপ নির্বাচন। আমরা সবাই বিষয়টি জানি। যদি তা উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেব না,' যোগ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। আপনারা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকেন। অন্যান্য বাহিনী আপনাদের সহায়তা করবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।'
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এখন থেকেই সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, কোনো অবস্থাতেই যেন নির্বাচন বিঘ্নিত, নষ্ট বা বিতর্কিত না হয়।