বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির ৪২০ কোটি ডলারের একটি মেগা প্রস্তাব বাতিল করেও স্বস্তিতে নেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তীব্র অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, বিভিন্ন মহলের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা এবং ফিফার ভেতরে-বাইরে তৈরি হওয়া চাপের মুখে বর্তমানে চরম ‘কোণঠাসা’ বোধ করছেন তিনি।
এই নজিরবিহীন সংকট সমালাতে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন ফিফা সভাপতি।
ফিফা সূত্রের খবর বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির জন্য ৪২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশাল প্রস্তাব এসেছিল। ইনফান্তিনো নিজেই এই প্রস্তাবটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পর ফিফার ভেতরে স্বচ্ছতা ও আর্থিক দূরদর্শিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও ইনফান্তিনোর বেশ কিছু সাম্প্রতিক উদ্যোগ ফিফাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফিফার নিজস্ব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফা প্লাস’ আশানুরূপ বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি, যা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
৩২ দলের নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন এবং ঘরোয়া লিগগুলোর সাথে ইনফান্তিনোর বিরোধ এখন তুঙ্গে। অতিরিক্ত ম্যাচের ঠাসা সূচির কারণে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও এসেছে।
ফিফার ভেতর ইউরোপীয় ফুটবল ইউনিয়ন- উয়েফাসহ শক্তিশালী ব্লকগুলো যখন ইনফান্তিনোর একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তখন তিনি আমেরিকার দরবারে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনোর এই কৌশলের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিত হলেও এর সিংহভাগ ম্যাচ এবং মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুকূল্য পাওয়া ফিফায় তার অস্তিত্ব টেকার জন্য জরুরি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ইনফান্তিনোর সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হোয়াইট হাউজে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা ফুটবলের বাণিজ্যিক প্রসারে একমত হয়েছিলেন। ইনফান্তিনো এখন সেই পুরোনো সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
ফুটবলকে বিশ্বায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। আমেরিকার রাজনৈতিক সমর্থন তাকে এই কোণঠাসা অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।