মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে রাজধানী নেপিদোর একটি বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেও তাকে ‘গৃহবন্দি’ হিসেবে রাখা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীকে নেপিদোর একটি নির্ধারিত আবাসে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনি দলের সদস্যরা।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে সু চির সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। ৩৩ বছরের মূল সাজা কয়েক দফায় কমিয়ে বর্তমানে ১৮ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে তাকে আরও ১৩ বছর বন্দি থাকতে হবে।
সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী রোববার (৩ মে) তাঁরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি এখন বদলেছে। এখন সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।"
সু চিকে কারাগার থেকে সরানোর খবরকে তাঁর পরিবার খুব একটা ইতিবাচকভাবে দেখছে না। সু চির ছেলে কিম আরিস জানিয়েছেন, তাঁর মা এখনো ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একজন জিম্মি’। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক টেলিভিশন সু চির যে ছবি প্রচার করেছে তা অনেক বছরের পুরোনো। তিনি তাঁর মায়ের বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত প্রমাণ এবং সরাসরি কথা বলার সুযোগ দাবি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক মহলে নিজের হারানো বৈধতা ফিরে পেতে সু চিকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’ এই পদক্ষেপকে জান্তার ‘জনসংযোগের খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই পদক্ষেপকে একটি ‘অর্থবহ ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, মিয়ানমারে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর জন্য এটি সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি দেশটিতে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে সু চিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগেও বিগত সামরিক জান্তা আমলে তিনি ইয়াঙ্গুনে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। বর্তমানে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চাপও জান্তা সরকারকে এই সিদ্ধান্তে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।