কী দিন এল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে! প্রথম রাউন্ড শেষে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই করতে হচ্ছে নানা হিসাব–নিকাশ। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে অজিদের একমাত্র অঘটন, জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হেরে যাওয়া। ওই হারই অস্ট্রেলিয়াকে দাঁড় করিয়েছে এমন পরিস্থিতিতে। বিশ্বকাপে সুপার এইটে আশা বাঁচিয়ে রাখতে কী করণীয় অস্ট্রেলিয়ার, কোন ম্যাচে কী হলে তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে- এ সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত তারা।
তবে সে সমীকরণ জটিল। অস্ট্রেলিয়ার খেলতে বাকি দুই ম্যাচ, যার একটি আজ পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যদি ওমানের বিপক্ষে জেতেও, তাহলেও নিশ্চিত নয় তাদের সুপার এইট। দুটি ম্যাচ জেতার পর তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি দলগুলোর ম্যাচের দিকে। হিসাব না মিললে ২০০৯ সালের পর প্রথমবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে জিতে ২ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পয়েন্ট টেবিলের ৩ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ২ ম্যাচ থেকে ৪ করে। বিপুল নেট রান রেট (+৩.১২৫) নিয়ে শ্রীলঙ্কা শীর্ষে, জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় স্থানে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে, এই দুই দলেরও হাতে আছে দুটি করে ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচের পর শ্রীলঙ্কা খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে খেলবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কা ও ওমানকে হারায় এবং শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আর জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জেতে; তাহলে তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৬ করে। সে ক্ষেত্রে সুপার এইট-ভাগ্য নির্ধারণ হবে নিট রান রেটে। এদিক থেকে আপাতত শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েই এগিয়ে আছে।
আর অস্ট্রেলিয়া যদি আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায়, শ্রীলঙ্কা উঠে যাবে সুপার এইটে। তখন অস্ট্রেলিয়ার লড়াইটা থাকবে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার কাছে জিম্বাবুয়ের হেরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা বাড়বে অজিদের। এর পাশাপাশি ওমানের বিপক্ষে যতটা সম্ভব নিট রান রেট বাড়িয়ে নিতে হবে তাদের।
টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে। ২৬টি টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, অস্ট্রেলিয়ার জয় ১৬টি (একটি সুপার ওভারে) আর শ্রীলঙ্কার ১০। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ বারের দেখায় অস্ট্রেলিয়ার ৪ জয়ের পাশে শ্রীলঙ্কার জয় মাত্র একটি। এমনকি শ্রীলঙ্কার মাটিতেও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া (৭ ম্যাচে জয় ৪টি, হার ৩টি)। দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি ১৪ ম্যাচের ১২টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ২টি।