এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি! তেহরানকে ট্রাম্প

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। শোক নয়, বরং চরম প্রতিশোধের নেশায় ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সম্ভাব্য বড় হামলার হুমকির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভয়াবহ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের সীমা অতিক্রম করে তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, “ইরান মাত্রই জানিয়েছে যে তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও তারা যদি সেটা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি!”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে মোকাবিলা করার একটি চূড়ান্ত সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খামেনির প্রয়াণ ইরানকে দুর্বল করার বদলে আরও বেশি আগ্রাসী করে তুলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পিছু হটার পাত্র নয়। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইসরায়েল (অধিকৃত অঞ্চল) এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসের “সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান”। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, এই বড় আকারের হামলা যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে।
আইআরজিসি-র হুংকার এবং ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলাটি চালায়, তবে ওয়াশিংটন ‘অভূতপূর্ব’ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

















