রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলেছেন। এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট চুরি নয়, বরং সরাসরি ডাকাতি হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন স্থানে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রতিটি হামলার হিসাব নেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি কোনো নির্বাচনবিরোধী দল নয়, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। রাজপথে সক্রিয় থেকে তারা হাদি হত্যার বিচার দাবি করবেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু টিআইবির রিপোর্টের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার মাধ্যমে এই নির্বাচনকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।
একই সুরে খেলাফত মজলিসের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা ফ্যাসিবাদী প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ।
জামায়াত নেতা ও নবনির্বাচিত এমপি সাইফুল আলম খান মিলনও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর পুরনো সেই কলঙ্কিত সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ব্যালটের অধিকার নিয়ে জনগণের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। দিনে সুষ্ঠু পরিবেশের মহড়া দিলেও সন্ধ্যায় ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রক্তের বিনিময়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছে; তাই পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা রাজপথেই প্রতিহত করবে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।