হিজবুল্লাহর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নাঈম কাসেম। ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্রীকরণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন। কাসেমের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বজায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নিজেদের কাছে অস্ত্র রাখা হিজবুল্লাহর একটি বৈধ অধিকার।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর এমন অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে লেবাননের সরকারি নেতৃত্ব। সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাকে ‘অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লেবাননের সেনাবাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনী মোতায়েন জোরদার করা হচ্ছে, যেখানে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননের এই বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তবে হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে তাদের নিরস্ত্রীকরণ করার মতো সক্ষমতা বা ইচ্ছা লেবাননের সেনাবাহিনীর আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।