ইরানে সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের নেতাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টির জন্য হামলা হতে পারে, বলেছেন ট্রাম্প।
বিবিসি বলছে, শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলার সম্ভাবনা প্রকট—কর্মকর্তারা এমন ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানে সীমিত আকারে হামলার কথা জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কিনা, নাকি দেশটিতে সামরিক হামলা হবে বিশ্ব সেটি ‘পরবর্তী, সম্ভবত ১০ দিনের’ মধ্যেই দেখতে পাবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ- ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তেহরানের দাবি- তাদের পরমাণু কর্মসূচি ‘পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ’।
সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বসেছিলেনু। সেখানে আলোচনায় ‘খানিক অগ্রগতি’ হয়েছে বলেও দাবি করে উভয়পক্ষ।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করেছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের হাতে হস্তান্তর করবে।
জেনিভায় দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের আশপাশে সমরশক্তি ক্রমশ বাড়াতে দেখা গেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডও দ্রুতগতিতে ওই অঞ্চলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, তার সঙ্গে আছে বিপুল পরিমাণ ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। এসবের সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে।
উপগ্রহের ছবিতে ইরানকেও সামরিক স্থাপনাগুলোর শক্তি বাড়াতে দেখা যাচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন বাহিনীকে হুঁশিয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্টও দিয়ে যাচ্ছেন।
‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ খুবই বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম,’ এক পোস্টে এমনটাই বলেছেন খামেনি।
যদি কোনো হামলা হয়ও, তাহলে তার লক্ষ্য কী হতে পারে সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ধারণা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার সামনে কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিকল্প হাজির করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অতীতে কখনও কখনও ট্রাম্প ‘সময়সীমার’ কথা বলে আচমকা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলেছেন।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে হামলা চালালে তা দেশের ভেতরেও ট্রাম্পকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করতে পারে। অবৈধ অভিবাসী দমন ও অর্থনীতি নিয়ে প্রেসিডেন্টের ওপর সিংহভাগ মার্কিনিই নাখোশ বলে একাধিক জরিপে দেখা যাচ্ছে।
ইরানে গত বছর ট্রাম্প যে একদিনের হামলা চালিয়েছিলেন, কিংবা জানুয়ারিতে তিনি যেভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করিয়েছেন সেগুলো তার মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন সমর্থকগোষ্ঠীকে বিচলিত না করলেও লম্বা কোনো যুদ্ধ হলে ওই সমর্থনে চিড় ধরতে পারে।
গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেই অনেকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ইরানে দীর্ঘ যুদ্ধ এবং তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন অস্থিরতার সূচনা করলে যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যা তার সমর্থকগোষ্ঠী ভালো চোখে নাও দেখতে পারে, ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।