ইরানে সহিংসতা দমনে কঠোর সরকার, নিহত দুই শতাধিক

ইরানজুড়ে শনিবার রাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে। গত তিন দিনে দুপক্ষের সংঘর্ষে কয়েক শ’ বিক্ষোভকারী নিহত বা আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেছেন, ‘যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
ইরানে এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনত মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, কিন্তু দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র শেষ করার ডাক দিচ্ছেন।
তেহরানের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শনিবার মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালগুলোতে হতাহত ব্যক্তিদের ভিড় উপচে পড়ছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল পশ্চিম লন্ডনে ইরানের দূতাবাস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন কয়েক শ’ বিক্ষোভকারী দূতাবাস ভবনের বাইরে জড়ো হন। হাতে ইরানের পতাকা নিয়ে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় একজন দূতাবাস ভবনের বারান্দায় উঠে ইরানের পতাকা নামিয়ে ফেলেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদের সময় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছেন।


















