ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন রহস্যময় এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তেহরানের একটি শান্ত গলিতে ঝাড়ুদারের ছদ্মবেশে থাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ রিভলভার বের করে দুই তরুণীকে গুলি করেছেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই শিউরে ওঠা তথ্য উঠে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগরের কাছের একটি শহরের নিজের বাড়ির ছাদ থেকে তিনি এই দৃশ্য দেখেন। তেহরানের অলিগলিতে সাধারণ ঝাড়ুদারের বেশ ধরে থাকা ঐ ঘাতক কোনো উসকানি ছাড়াই দুই তরুণীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এছাড়া তেহরান থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে কাজভিনেও একই ধরনের রহস্যময় ঘটনার কথা জানিয়েছে আইআরজিসির একটি সূত্র। সেখানে মা ও শিশুকে এমন অস্ত্রে হত্যা করা হয়েছে, যা সাধারণত ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে না।
বিক্ষোভের আড়ালে এই ধরণের সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দিতে এবং বিশৃঙ্খলা বাড়াতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এ ধরণের ‘হিট স্কোয়াড’ ব্যবহার করছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি টুইট এবং ইসরায়েলি মন্ত্রীদের মন্তব্য এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ইউরোপের 'ব্ল্যাক ব্লক' কৌশলের মতো মুখোশধারী কিছু দলও এই বিক্ষোভে সক্রিয় ছিল বলে জানা যায়, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।