ইরানে বিক্ষোভে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ ৩ হাজার ৯০টি মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করেছে, যার মধ্যে বিক্ষোভকারী রয়েছে ২ হাজার ৮৮৫ জন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সে এই খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪২৮ জন।
আইএইচআর জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কারণে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছে না। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার বা ২০ হাজারের বেশিও হতে পারে।
সংস্থাটির দাবি, এই সংখ্যা দেশের বাইরে অবস্থিত ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে সহিংসতার মূল উসকানিদাতা, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সশস্ত্র হামলাকারীরা রয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে অনেক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে।
রয়টার্স বলছে, গোয়েন্দা অভিযানে অন্তত ২২ জন মূলহোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে নাজানিন বারাদারান নামে এক নারী রয়েছেন, যিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে কাজ করতেন বলে দাবি করেছে সরকারি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সরকারের কঠোর অবস্থানের পর আপাতত ইরানের বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত। টানা ৪ দিন ধরে তুলনামূলকভাবে শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে দেশটির রাজধানী তেহরানে। শহরের আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভ দেখা যায়নি।