মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই এবার পশ্চিম গোলার্ধের কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবার দিকে নজর ফেরালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ শেষ হওয়ার পরপরই কিউবার কমিউনিস্ট জমানার পতন ঘটানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান এখন ‘কেবল সময়ের অপেক্ষা’।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় বর্তমানে ইরান শীর্ষে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে ওদের (ইরান) শেষ করতে চাই।” ইরানের অধ্যায় সমাপ্ত হওয়ার পরেই কিউবার বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, কিউবা সরকার ইতিপূর্বে আমেরিকার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সেই প্রস্তাবিত সমঝোতায় তিনি সন্তুষ্ট নন বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন।
কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দেশটিতে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কিউবার এই বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।
উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘দুর্দান্ত’ অভিহিত করে তিনি বলেন, “কিউবার সঙ্গে যা হচ্ছে, দারুণ হচ্ছে।” বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার পর কিউবার ওপর এই ক্রমবর্ধমান চাপ ওই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।